জানালার কালো কাঁচ

মরিচা ধরা ভাঙ্গা টিনের জোড়াতালি দেয়া দেয়াল। ছেঁড়া নীল পলিথিনে মোড়ানো ছনের ছাঁদ। ছোট্ট ঘরটাকে আরো ছোট দুটো টুকরো করেছে বাংলা সিনেমার পোস্টার জুড়ে বানানো দেয়াল। সে দেয়ালেরও এখানে সেখানে ফুটো হয়ে গেছে। উচ্চবিত্তদের বাসের এলাকার মাঝে ভীষণ খাপছাড়া লাগে ঘরটা। আসলে জমির মালিক এখানে পাহারা দেয়ার জন্য থাকতে দিয়েছেন নিজের গ্রামের একটা ছেলেকে। এই ছেলেকে মাসে মাসে কিছু টাকাও দেন জমির মালিক। কিছুদিন পরে এখানে উঠবে বিশাল সুরম্য অট্টালিকা। তখন আর এই জীর্ণ ঘরের ছাপ খুঁজে পাওয়া যাবেনা।

এই জমিটার তিনপাশে এখুনি উঠে গেছে বিশাল সব বাসা। সামনে রাস্তা। শোনা যায় এখানে এক শতক জমির দাম দুই-আড়াই কোটি টাকা! গ্রামের সেই ছেলে যার নাম রহমান। সে বসে ভাবে তার পুরো গ্রাম বিক্রি করলেও বোধহয় এতো দাম হবেনা! কোথায় পায় মানুষ এতোগুলো টাকা? খানিকপরেই হিসেব গুলিয়ে যায় রহমানের। ঘরের ভেতর থেকে রহমানের বাবা ডাকে রহমানকে। রহমান উঠে বাবার কাছে যায়।  বিস্তারিত পড়ুন

Advertisements

ননি-বনি

আজ একটা গল্প বলি। গল্পের নায়িকা পিচ্চি। নায়কও পিচ্চি। পাশাপাশি বাসা, হাত ধরে স্কুলে যায়। যেতে যেতে কোনোদিন বাদাম, কোনোদিন রহিম চাচার এক টাকার আইসক্রিম খায় দুজন। ছুটে ছুটে খেলে ধরা-ধরি। একদিন বৃষ্টির দিনে কাদার উপর ধরাশায়ী দুজনে! বাসায় ফিরে কি মারটাই না খেলো দুটাই। যাই হোক নামই যে বলিনি পিচ্চি দুইটার! আপনারাও যে কি! একটু মনে করায় তো দিবেন? ছেলে পিচ্চির নাম বনি। মেয়েটার নাম ননি। তো এভাবে চলে দিন। একসাথে স্কুল, স্কুল থেকে ফিরে একসাথে খেলা। পাশাপাশি বাসা বলে খাওয়াটাও কখনো কখনো একসাথে হয়ে যায়। দিনের পর দিন, অনেকদিন গল্প চলে এভাবেই। কিছুদিন পর গল্পটা একটু বদলে যায়। সেই গল্পই বলি। মেয়েটা একা যায় স্কুল। তারপর একা যায় কলেজে। কলেজে এক ছেলে ননিকে খুব পছন্দ করে। সাহস করে একদিন বলে ফেলে ভালোবাসি। ননি সোজা না বলে দেয়। ছেলে পিছু ছাড়ে না মেয়ের। নাছোড়বান্দা! তবু ননির মন গলেনা। বিস্তারিত পড়ুন

ফিরবে কবে?

আমার অনেক কান্না পায়। কেঁদে ফেলি। গাল ভাসাই। খেলার ব্যাট ভেঙ্গেছে, কাঁদি। ফুটবলের বাতাস কমেছে, কাঁদি। আমার গ্লাসে টুকুনবাবু পানি খেয়েছে? কেঁদে ফেলি। কখনো কখনো পেন্সিলের মাথা ভাংলেও কাঁদি!

আমি আম্মুর বড় এক জ্বালা। কারণ আমার কান্না খুবই বিরক্তিকর। যে কারণেই শুরু হোক, এর শেষ হয়না সহজে। কেঁদেই চলি। যেখানে সেখানে শুরু হবার কারণে আম্মুকে ভীষণ বিরক্ত হতে হয়। একবার একজনের মৃত্যুদিবসে গেছি আম্মুর সাথে। আমার পাশে এক আন্টি। অসাবধানে আন্টির হাতের ব্যাগের এক কোণা লাগলো আমার হাতে। কাঁদার এই সুবর্ণ সুযোগ কেউ ছাড়ে? আমিও ছারলামনা। এমনি কান্না যে মিলাদ পড়াচ্ছিলেন যে হুজুর তিনিও মিলাদ পড়ানো ছেড়ে আমাকে মানে কান্নার উৎস খুঁজতে লাগলেন!

আম্মু আমাকে নিয়ে বেড়িয়ে এলেন সেখান থেকে, তারপর সে কি বকা! আমার কান্না আরো বাড়তে লাগলো! সাধারণত আমার কান্নার ভয়ে কেউ আমাকে বকেনা, আজ অনেকদিন পর কেউ বকা দিচ্ছে! আমি মনে মনে হাসি আর বিস্তারিত পড়ুন