ননি-বনি

আজ একটা গল্প বলি। গল্পের নায়িকা পিচ্চি। নায়কও পিচ্চি। পাশাপাশি বাসা, হাত ধরে স্কুলে যায়। যেতে যেতে কোনোদিন বাদাম, কোনোদিন রহিম চাচার এক টাকার আইসক্রিম খায় দুজন। ছুটে ছুটে খেলে ধরা-ধরি। একদিন বৃষ্টির দিনে কাদার উপর ধরাশায়ী দুজনে! বাসায় ফিরে কি মারটাই না খেলো দুটাই। যাই হোক নামই যে বলিনি পিচ্চি দুইটার! আপনারাও যে কি! একটু মনে করায় তো দিবেন? ছেলে পিচ্চির নাম বনি। মেয়েটার নাম ননি। তো এভাবে চলে দিন। একসাথে স্কুল, স্কুল থেকে ফিরে একসাথে খেলা। পাশাপাশি বাসা বলে খাওয়াটাও কখনো কখনো একসাথে হয়ে যায়। দিনের পর দিন, অনেকদিন গল্প চলে এভাবেই। কিছুদিন পর গল্পটা একটু বদলে যায়। সেই গল্পই বলি। মেয়েটা একা যায় স্কুল। তারপর একা যায় কলেজে। কলেজে এক ছেলে ননিকে খুব পছন্দ করে। সাহস করে একদিন বলে ফেলে ভালোবাসি। ননি সোজা না বলে দেয়। ছেলে পিছু ছাড়ে না মেয়ের। নাছোড়বান্দা! তবু ননির মন গলেনা।

ননি কলেজ শেষ করে ভার্সিটিতে ঢোকে। ছেলেতো কঠিন প্রেমি! ননির পিছে লেগেই থাকে। একদিন ভার্সিটির জীবন শেষে সেই ছেলেটির সাথেই বিয়ে হয় ননির। অবশ্য আমরা যাকে বলি settle marriage. ছেলেটা এতোই ভালোবাসে ননিকে যে মন চেয়ে মন না পেয়ে শেষে বাবা-মাকে দিয়ে প্রস্তাব দেওয়ায়। ননির বাবা-মাও রাজি হয়। অতঃপর বিয়ে।

গল্পটা এখানেই শেষ হতে পারতো। কিন্তু মাঝের খানিকটা বাকি রয়ে গেছে। যার সাথে ননির বিয়ে হলো সেই ছেলেটিই কি বনি? নাহ। ননির বনি এ নয়। বরং ননি তাকে গল্প বলে বনির। একদিন স্কুল যাবার সময় ননি বায়না ধরেছিলো আইসক্রিম খাওয়ার। বনি সেই আইসক্রিম আনতে রাস্তার ওপাশে রহিম চাচার দোকানে গিয়ে আর আসেনি। কাদামাখা রাস্তায় একটা ছোট ট্রাক স্লিপ করে…

ননি নিজেকে ক্ষমা করতে পারেনি। সেই ছোট্ট মেয়েটা বড় হয়েছে। বিয়ে হয়েছে। তবু সেই ছোট্ট গোলগাল চেহারাটা ভুলতে পারেনা ও। শেষ যেবার দেখেছে সেবার সেই মুখটা বিকৃত হয়ে গেছিলো। কেউ ওকে দোষ দেয়নি, তবুও নিজের কাছেই সে অপরাধী।

অবশেষঃ ননির একটা পুতুলের মতো বাচ্চা হয়েছে। সে তার নাম রেখেছে বনি। বনিকে প্রথম দেখে বুকটা ছ্যাঁত করে উঠেছিলো ননির। এই তো সেই বনি! সেই গোল-গাল লালচে মুখের খেলার সাথী। বনি ফিরে এসেছে ওরই কোলে। ননির অপরাধবোধ কমে যায়। সে পৃথিবীর মাঝে ফিরিয়ে এনেছে বনিকে।

5 thoughts on “ননি-বনি

মন্তব্য প্রদান করুন ...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s