স্বপ্ন পূরণের মিশনে এক ধাপ এগিয়ে গেলাম! সত্যি কি তাই?

মানুষ স্বপ্ন দেখে বেঁচে থাকার জন্য, নতুন কিছু করবার জন্য। বেশিরভাগ মানুষের মাঝেই তা দেখা যায়। অন্যান্য আর সকল মানুষ যারা এরকম স্বপ্ন দেখে তাদের মত আমি স্বপ্ন দেখি সবসময় ভাল কিছু করার। যাতে করে সবাই উপকৃত হতে পারে। আসলে আমার স্বপ্নটি হয়তো একটু অন্য রকমও বটে। তাহলে বলি…

আমার কম্পিউটারে হাতে খড়ি হয় ২০০৬ এ। তারপর থেকে আর এই লাইনে পেছনে ফিরে দেখতে হয় নি। কোন বাধাই আমাকে এর থেকে দূরে সরাতে পারে নাই। একের পর এক স্বপ্ন দেখছিলাম আর ছুটে চলছিল আমার স্বপ্ন পূরনের মিশন। এরই মাঝে অনেক কিছু পরিবর্তন আসে, কিন্তু আমার স্বপ্ন গুলো যেন অপরিবর্তনীয়। আসলে স্বপ্নগুলো সত্যিই দেখেছিলাম তাই এমনটা হয়েছে। নিজেকে মেলে ধরার পথ খুঁজছিলাম অনেক আগে থেকেই। কিন্তু এই পথ যে অনেক কন্টকাকীর্ণ তা বুঝতে বাকি রইলো না। কিন্তু আমি ছাড়বার পাত্র ছিলাম না। এখনও কোন বিষয়ের(অবশ্যই ভাল কাজের) একবার মনে ধরলে তার শেষ না দেখে স্থীর হতে পারি না।

একের পর এক নিজেকে বিভিন্ন ভাবে মেলে ধরার জন্য অনেক কিছুই করে চলছি। কিন্তু ঐ যে বললাম পথ দেখানোর মানুষের অভাব। যাক, নিজেকে আমি একজন প্রযুক্তির কান্ডরী ভাবতে ভালবাসি। কারন, প্রযুক্তিকে নিয়ে আমার মাঝে এমন সব বেপার খেলা করে যা আর করো মনে খেলা করে কিনা জানি। ওসব নাহয় না-ই বললাম।😛

পেশা হিসাবে আমি আপতত পড়াশুনার পাশাপাশি ফ্রীলান্সিং করছি। এছাড়াও টুকটাক বাংলা ও ইংরেজীতে ব্লগ লিখছি কয়েক জায়গায়। কিন্তু মন যে মানে না কোন কাজেই। কারন আমার কয়েকটি স্বপ্ন যে ঘুরপাক খাচ্ছে অনবরত। তার মধ্যে একটি হল অনলাইন মিডিয়াতে কাজ করা। যদিও ব্লগিং কেও অনলাইন মিডিয়াও বলা চলে। তবুও এর থেকে তেমন স্বাধ পাচ্ছিলাম না। আমার স্বপ্ন ছিলাম অনলাইন যেকোন পত্রিকায় কাজ করা। কিন্তু স্বপ্ন থাকলেইতো আর পূরণ হয় না। এর জন্য মামা-মামি(টাকা-যোগাযোগ) লাগে। আমারতো এ দুটির কিছুই নাই। তাহলে উপায়? এরই মাঝে আমার ফেসবুক এর সবচেয়ে প্রিয় বন্ধুদের মধ্যে একজন আল-আমিন কবির, যে কিনা অনেক দিন যাবত দৈনিক কালের কন্ঠে ফিচার রিপোর্টার হিসাবে কর্মরত। ওকে দেখে আমার অনেক হিংসা হত মাঝে মাঝে, ও মিডিয়াতে কাজ করতে পারলে আমি কি দোষ করছি(দোস্ত তুই এই পোষ্টটা পড়লে আবার মাইন্ড খাইস না ;)। মূলত স্বপ্ন থাকলেও ওর কাজ কাম দেখার পর থেকেই আমার মিডিয়াতে কাজ করার ভুত মাথায় চাপে ভালভাবে।😉

স্বপ্ন দেখি আর দিন গুনতে থাকি আসলেই কি আমার ভাগ্য সাড়া দিবে আমার সাথে? দিলেও দিতে পারে। তবে আপাতত যেহেতু আমার মামা-মামি নাই তাই স্বপ্নকে চাপা দেয় রাখতাম। সবসময় ভাবতাম, ইস! যদি স্থানীয় পত্রিকায় কাজ করতে পারতাম।😉 কিন্তু নাহ! এখানেও মামা-মামি আর সবচেয়ে বড় সমস্যা “দূর্নীতি” ছোবল। আসলে আমার মিডিয়াতে কাজ করার উৎসাহের ব্যাপারটি বলে বুঝাতে পারবো না।

যাহোক এবার আসি মূল কথায়, আসলেই আমি সাফল্যের দেখে পেলাম কিনা! ফেসবুক মারফত যোগাযোগ হল আমার প্রাণপ্রিয় শহর রংপুরের অনলাইন পত্রিকা রংপুরওয়েব.কম এর পরিচালক ও বার্তা প্রধান মাজেদুল ইসলাম ভাইয়ের সাথে। পরিচয়টা অবশ্য রংপুরের ফেসবুক ফ্যান পেজ থেকে। ওনার সাথে কথাবার্তা, দেখা সব কিছুই হল। ঈদ-উল-ফিতর’১১ বাদে রংপুরবাসীর মিলন মেলার আয়োজনও করলাম। এর পরেই আমার মধ্যে উদ্দ্যম আসলো রংপুরওয়েব কে নিয়ে। আমিতো এখানেই কাজ করতে পারি। যদিও ইচ্ছা ছিল কিন্তু বলতে সংকোচবোধ করছিলাম। এটা নিয়ে কিছু দিন ভাবলাম। তারপর মাঝে মধ্যেই রংপুরওয়েব এর অফিসেও যেতাম। রংপুরওয়েবের আরেক বার্তা প্রধান এবং অত্যান্ত কর্মঠ মানুষ রিয়াদ আনোয়ার শুভ ভাই। এই দুইজন মানুষ গত দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে রংপুরওয়েবকে অক্লান্ত পরিশ্রম করে চালিয়ে যাচ্ছেন। তাও নিয়ের টাকায় কোন রকমের লাভ ছাড়া। মনে মনে ঠিক করে ফেললাম আমার স্বপ্নপূরনের মিশনের একধাপ আমার সামনেই, এটাকে শুধু ধরবার পালা। এরই মাঝে কয়েকদিন আগে(০১/১০/২০১১) রংপুরওয়েবের অফিসে কোন এক কাজে গিয়েছিলাম। পাশেই হচ্ছিল চ্যানেল আই এর ১২ বছর পূর্তির অনুষ্টান। এমন সময় শুভ ভাই আসলেন। আমি আর মাজেদ ভাই অফিসের বাহিরে দাড়িয়ে কথা বলছিলাম বিদ্যুত না থাকার কারনে। এরই মাঝে শুভ ভাই আসলেন। আমরা কথা বলছিলাম রংপুরওয়েবের পরবর্তী ভার্সন বের করার বেপার নিয়ে। শুভ ভাই আমাকে হুট অফার করলেন রংপুর ওয়েবের প্রযুক্তি বিভাগের দায়িত্ব গ্রহনের জন্য। মনে মনে তখনই সম্মতি দিলেও তা শুধু মাত্র হাসি দিয়ে প্রকাশ করা ছাড়া আর কিছুই পেলাম না। কিছুক্ষন পর বাসায় চলে এলাম। আমিতো মনে মনে অনেক খুশি যে শুধু এতটুকুর অপেক্ষায় ছিলাম যে উনারা আমাকে বলুক।🙂

সেদিন রাতেই মাজেদ ভাইকে জানালাম একটা রিপোর্ট রংপুর ওয়েবে দিতে চাই। আমাদের রংপুর জেলা হকি দল, জাতীয় যুব হকি লীগ খেলতে টাকা যাচ্ছে ০৭/১০/২০১১ তারিখে এটা নিয়ে। যদিও প্রযুক্তি বিভাগের দ্বায়িত্ব নেয়ার কথা কিন্তু খবরটি যেহেতু আমি ছাড়া মাজেদ ভাই কিংবা শুভ ভাই জানেনা তাই ঠিক করলাম। এই রিপোর্টটি আমি করবো এটি দিয়েই সাংবাদিকতায় নাম লিখাবো। মাজেদ ভাইয়ের অনুমতি পেলাম সকালে ফেসবুকে। সেদিনই মাঠে বসেই জেলা হকি দলের প্রাকটিস সেশনে রিপোর্টটি করলাম। দলের কোচ ও সাবেক কয়েকজন খেলোলোড়ের সাথে কথা বললাম। ঠিক যেমনটা অন্যসব রিপোর্টার বা সাংবাদিকরা করে। প্রথম রিপোর্ট বা সাংবাদিকতা যাই বলি না কেন, সব প্রথমে আমার মাঝে অনেক দূর্বলতা কাজ করতো। তবে, এই রিপোর্টটা করতে যেন আমি অনেক সাহস পাচ্ছিলাম। কেন পাচ্ছিলাম জানি না !! প্রায় ১ ঘন্টা ধরে কথা বলা তারপর গ্রুপ ছবি তুললাম। যদিও ক্যামেরা হিসাবে আমার মোবাইলটিকেই ব্যবহার করেছিলাম।😉 মাগরিবের নামাজের পর বাসায় ফিরলাম। এবার রিপোর্ট কম্পোজ এর পালা। প্রায় ২/৩ বছর থেকে বাংলা ব্লগিং এর সাথে যুক্ত থাকার কারনে ভাষাগত কোন সমস্যা হয় নাই। তবে, রিপোর্ট করার আগে মাজেদ ভাই এর থেকে ইন্সট্রাকশন নিয়ে নিয়েছিলাম। সেভাবেই লিখা শেষ করলাম। লিখাটি পড়ে মনে হচ্ছিল ……(থাক বলবো না)। রিকাটি পড়া শেষে সাথে সাথেই শুভ ভাইকে ফেসবুকে ম্যসেজে কনফার্ম করলাম যে. আমি রংপরুওয়েবের প্রযুক্তি এবং ক্রীড়া রিপোর্টার হিসাবে কাজ করবো। শুভ ভাই যেন হাফ ছেঢ়ে বাঁচলেন ষেটা ওনার রিপ্লে থেকে বুঝাই যায়। আসলে কেনই বা বাঁচবেন না, এতোদিন যে এই মানুষ দুটি একটি অনলাইন পত্রিকাকে টেনে ধরে আছেন। হোক না সেটা স্থানীয়। তারপরও কি কম মনে করেন?

আমার স্বপ্ন পূরণের মিশনগুলোর একটি আপনাদের(শুভ ভাই ও মাজেদ ভাই) কাছে খুজেঁ পেয়েছি। তাই আপনাদের কাছি আমি চির কৃতজ্ঞ। যতটুকু পারি নি:স্বার্থ কাজ করে যাবো আপনাদের সাথে। প্রতিটি মুহূর্তে আমাকে পাশে পাবেন। আমার আরো স্বপ্নগুলো হয়তো এতো দিনে আপনারা জেনে গেছেন। আপনাদের নিয়েই সামনের গুলোতে পদক্ষেপ নিবো। আশা করি আপনারাও আমার পাশে থাকবেন। আমাদের শহর রংপুরকে বাংলাদেশের মডেল শহর হিসাবে উপস্থাপন যেন করতে পারি সেই চেষ্টাই আমার থাকবে।

আচ্ছা একটু কি বেশিই বলে ফেলছি নাকি? হয়তো আমার কথায় অনেকে আমাকে পাগল ভাববেন। ভাবতে পারে না। আমি আসলেই পালগ একটা ছেলে। তবে, সেটা প্রযুক্তির নেশায় পাগল। দেশের এক নাম্বার প্রযুক্তি পাগল হতে চাই। আর সেই পাগলামিতেই কিছু স্বপ্ন বুনছি। কারন, স্বপ্ন দেখতে নেই মানা। যদি স্বপ্ন দেখতিই না পারেন তাহলে কোথায় আপনার স্বার্থকতা। 🙂

যাক আর বেশি কথা বাড়াবো না। যে রিপোর্ট দিয়ে আমার নতুন ভূবনে প্রবেশ সেটি “জাতীয় যুব হকি লীগ খেলতে যাচ্ছে রংপুর জেলা হকি দল”- শিরোনামে প্রকাশিত। পড়ে জানাতে ভুরবেন না কেমন হলো। আসলেই কি আমার স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে, আপনি কি মনে করিন?🙂

এতক্ষন ধৈর্য্য নিয়ে গিগা পোষ্টটি পড়ার জন্য আন্তরিক ধন্যযোগ। 🙂

সবাই ভাল থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।

4 thoughts on “স্বপ্ন পূরণের মিশনে এক ধাপ এগিয়ে গেলাম! সত্যি কি তাই?

  1. খেলার রিপোর্ট পড়ে কি মনে হয়েছিলো সেটা যানতে খুব ইচ্ছে হচ্ছে তবে থাক বলার দরকার নেই তবে আপনার প্রথম করা ওই রিপোর্ট অবশ্যই পড়তে হবে তাই মিয়া ভাই লিঙ্ক টা দিয়ে দেন ত😀

মন্তব্য প্রদান করুন ...

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s